গল্প গ্রামের মেয়ের সংসার
পর্ব:১
......
এলো চুলে কাশফুলের ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে দৌড়াচ্ছে
এক দুরন্ত তরুনি। আর পিছন থেকে ছুটে আসছে তারই সখির
দল। কিন্তু দুরন্ত তরুনির দ্রুততার সাথে তারা পেরে
উঠছেনা। মেয়েটির হাতে এক গাছি কাচাঁ তেতুল দেখা
যাচ্ছে। বুঝা গেলে অন্য মেয়েরাও সেই তেতুলের ভাগ
পাওয়ার উদ্দেশ্যই প্রানপন দৌড়াচ্ছে। দুরন্ত তরুনিটি
কাশফুল ক্ষেত পেরিয়ে এক উচু আম গাছে উঠে বসে তার
সখি দের ভেংচি কাটলো। উজ্জল শ্যামলা মুখের মধ্যে
ডাগর দুইটি চোখ আর বাকা ঠোটের হাসি যেন তার শ্রি
আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দিচ্ছে। চোখ দুইটি দেখে যেন
অতল সাগরের গহবরে হারিয়ে যেতে মন চায়। এক কোমর
চুল সামলাতে উদাসীন সে। চোখের উপর আসা কয়েকটা
চুল কানের পাশে গুজে হাসি মুখে বান্ধুবিদের বলল,
:--- এবার আমার নাগাল পেয়ে দেখা!
,
:--- দেখ কুয়াশা!(মেয়েটির নাম) এটা কিন্তু মোটেও ঠিক
হচ্ছেনা। আমরাও তেতুল পাড়তে কষ্ট করেছি। তাই
আমাদের ও কষ্টের মিষ্ট টা পাওয়া উচিৎ!(মিতালি)
,
:--- ইশ!!! সরি রে, তেতুল এ মিষ্টি কই পাবি তুই?? তেতুল
তো টক হয় এটাও যখন জানিস না তখন তোদের আর তেতুল
খেয়ে কাজ নেই। এই খানা আমি একা সাবাড় করে
দেবো। (কুয়াসা)
,
:-- দিবিনা তো ওকে দিসনা! আমরা ও তোর মা কে গিয়ে
বলছি তুই আজ আবার কলেজ যাসনি!(সোনালি)
,
জিবে কামড় দিয়ে কুয়াসা নিজের দিকে তাকায়, গায়ে
তো কলেজ ড্রেস জড়ানো। সে তো কলেজ যাওয়ার জন্যই
ঘর থেকে বেরিয়েছিল কিন্তু মাঝপথে তেতুল গাছ দেখে
লোভ সামলাতে পারেনি। ড্রেস সহ সব বন্ধুরা মিলে
তেতুল পাড়ল ঠিকই কিন্তু কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই
কুয়াশা তেতুল নিয়ে পালায়। এরপরে তো সব আপনারা
দেখলেন। কুয়াশা বুঝল মায়ের কানে এই খবর গেলে আর
রক্ষে নেই। তাই সে ভালয় ভালয় গাছ থেকে নেমে
বান্দুভি দের বলল,
:-- রাগ করছিস কেন রে?? আমি কি বলেছি যে তোদের
দেবোনা। চল আর কথা না বাড়িয়ে গাছতলায় বসে সবাই
মিলে ওগুলা খাই।
ওর বান্দুবিরা এতে সায় দিল। এবং এইভাবে নানা দুষ্টমি
শেষে বাড়িতে ফিরল কুয়াশা। কুয়াশা কে দেখে
কুয়াশার মা এগিয়ে গেল,
:-- কিরে আজ ঠিক মতো ক্লাস করেছিস তো?? নাকি
আবার ফাকি মেরেছিস?
,
:--কি যে বলো না মা। আমি কি ওমন মেয়ে বলো!
সারাদিন আজ কলেজে মাষ্টার মশাইয়ের বক বক শুনতে
শুনতে কানের সব পোকা মরে গেছে। এখন আর প্রশ্ন করনা
প্লিস!
,
:--- তুই কবে বড় হবি বল তো!(মা)
,
:--- সামনে কিন্তু ইন্টার পরিক্ষা মা ভাল করে পড়বি।
আমাদের গ্রামে খুব কম মেয়েরাই ইন্টার পাশ করতে
পেরেছে।(ওর বাবা)
,
:-- তুমি একদম চিন্তা করোনা বাবা। আমি ঠিক পাশ করব!
,
,
এইভাবে কাটছিল কুয়াসার দুষ্ট মিষ্টি দিন গুলি। একদিন
সকাল বেলা কুয়াসা আর ওর বান্দুবিরা মিলে কলেজে
যাচ্ছিল। ওদের গ্রামের পাশেই বহমান মেঘনা নদী। নদীর
পাশ দিয়েই ওরা হাসতে হাসতে যাচ্ছিল। হঠাৎ ঝপাং
করে কিছু একটা পানি তে পড়ার শব্দ শুনল ওরা। কাছে
দেখতে পেল একটা মাঝ বয়সী লোক পানিতে হাবুডুবু
খাচ্ছেন।একটু সাঁতার দেওয়ার চেষ্টা করলেও পানির
স্রোতের কাছে ব্যর্থ হচ্ছেন। হঠাৎ মিতালি বলে উঠল,
লোক টা তো মরে যাবে।
তারপরই কুয়াসা পানিতে ঝাপ দিল। সাথে সাথে ওর
বান্দুবিরা চেঁচাতে লাগল। কুয়াসা পানির স্রোত অনেক
বেশি। কুয়াসা কোনো কথা কানে না নিয়ে লোকটার
দিকে এগিয়ে গেল। লোকটা কে নিজের কাধে ভর দিয়ে
প্রায় অনেক কষ্টে কুল পর্যন্ত নিয়ে আসল। তারপর
বান্দুবিরা সহ লোকটা কে কুলে তুলতে সক্ষম হলো।
লোকটার গায়ে সাহেবি সাফারি স্যুট পরা দেখে মনে
হচ্ছে শহর থেকে এসেছেন। মাথায় কাচা পাকা চুল। পানি
খাওয়ায় লোকটা জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলেছে তাই তারা
কয়েক জন লোক ডেকে গ্রামের হাস্পাতালের উদ্দেশ্য
পাঠিয়ে দিয়ে কলেজে চলে গেল। পথে কুয়াশার বান্দুবি
রা বলল,
সত্যিরে তোর অনেক সাহস! নাহলে ওমন স্রোত নদী তে
ঝাপ দিতে পারতি না।
:--- জানিনা কিন্তু লোকটার কিছু হয়ে গেলে নিজেকে
ক্ষমা করতে পারতাম না। চোখের সামনে একটা লোক কে
কি করে মরতে দিতে পারি!
তারা কুয়াসার এই ব্যাপার টি কলেজেও বলে তাই
কুয়াশার প্রসংসা পঞ্চমুখ হয়ে কলেজের সবাই!
চলবে.....
গল্প পড়তে চাইলে আমায় ফলো করে রাখবেন।
0 মন্তব্যসমূহ